অর্শ বা পাইলস রোগের চিকিৎসা করুন নিজে নিজে! Home Remedy of Piles

অর্শ বা পাইলস-
অর্শ বা পাইলস হলো পায়ুপথে এবং মলাশয়ের নিম্নাংশে অবস্থিত প্রসারিত এবং প্রদাহযুক্ত শিরা। এই অর্শ মলদ্বারের ভেতরেও হতে পারে আবার বাইরেও হতে পারে। সাধারনত দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য অথবা গর্ভকালীন সময়ে এই সমস্ত ধমনীর উপর চাপ বেড়ে গেলে পাইলসের সমস্যা দেখা দেয়।

পাইলস বা অর্শ একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। ৫০ বছরের বেশি বয়সী লোকদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকেরই খোসপাঁচড়ার মত চুলকানি এবং রক্তপাত হয় যা থেকে পাইলসের উপস্থিতি আছে বলে ধারনা করা যায়। পাইলসের চিকিৎসায় অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের (কোলোরেক্টাল সার্জন) কাছে যেতে হবে।

পাইলস কেন হয়?-
পাইলস কেন হয়? তার সঠিক কারণ জানা সম্ভব না হলেও দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, পানি কম খাওয়া, শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার কম খেলে, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থায়, লিভার সিরোসিস, বৃদ্ধ বয়সে, বেশী চাপ দিয়ে মল ত্যাগ করলে, বেশি মাত্রায় মল নরমকারক ওষুধ ব্যবহার করলে, টয়লেটে বেশী সময় ব্যয় করলে, পরিবারে কারও পাইলস থাকলে, দীর্ঘ সময় বসে থাকলে ইত্যাদি নানান কারনে অর্শ বা পাইলস বেশি হয়ে থাকে।

অর্শ বা পাইলসের লক্ষন ও উপসর্গসমূহ-

পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হতে পারে।
মলদ্বারে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হতে পারে।
মলদ্বারের ফোলা বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে আবার নাও পারে। অনেক সময় বের হলে তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। আবার কখনও কখনও বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না অথবা প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বেরিয়ে আসে।
মলদ্বারের বাইরে ফুলে যায় যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।
পায়ুপথের মুখে চাকার মত হতে পারে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথা হতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?
পায়খানা কালো বা লালচে হলে, পায়খানার সাথে রক্ত আসলে, পায়খানার সময় বা পরে পায়ুপথের মুখে চাকা অনুভব করলে, মলদ্বারে ব্যথা হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে।